Dhaka ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শীতে ময়েশ্চারাইজারে কাজ না হলে কী করবেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ১২৩ Time View

লাইফস্টাইল ডেস্ক : শীতের দিনে ত্বক রু লাগা খুবই স্বাভাবিক। ঠান্ডা হাওয়া, বাতাসে কমে যাওয়া আর্দ্রতা এবং নিয়মিত গরম পানির ব্যবহার ত্বকের স্বাভাবিক তেল ও আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। অনেকের ত্বক এতোই শুষ্ক হয়ে যায় যে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেও শুষ্কতা দূর হয় না। এমন পরিস্থিতিতে ত্বকের যথাযথ যতœ নেওয়া প্রয়োজন।

১. সঠিক কিনজার ব্যবহার করুন

শীতে ফোমিং কিনজার ত্বককে আরো শুষ্ক করে। তাই সালফেট-ফ্রি, ময়েশ্চারাইজিং কিনজার ব্যবহার করা উচিত। ক্রিম- বা জেল-বেসড কিনজার মুখ পরিষ্কার রাখে, কিন্তু ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে না।

২. গরম পানি এড়িয়ে চলুন

শীতে অনেকেই গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়, যা ত্বকের আর্দ্রতা আরও কমিয়ে দেয়। ঠান্ডা বা হালকা গরম পানি ব্যবহার ত্বকের জন্য সবচেয়ে ভালো। এতে ত্বক পরিষ্কার হয় এবং আর্দ্রতাও নষ্ট হয় না।

৩. টোনারের পরিবর্তে হাইড্রেটিং মিস্ট বা এসেন্স ব্যবহার করুন

অ্যালকোহল-বেসড টোনার শীতে ত্বক শুষ্ক করে। বদলে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, অ্যালোভেরা, রোজ ওয়াটার বা স্নেইল মিউসিন সমৃদ্ধ হাইড্রেটিং মিস্ট বা এসেন্স ব্যবহার করলে আর্দ্রতা ত্বকের গভীরে পৌঁছায়।

৪.ভারী ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন

শুধু হালকা ময়েশ্চারাইজার শীতে অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। তাই ঘন, পুষ্টিকর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। যাতে থাকে সেরামাইড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন এবং স্কোয়ালিন বা শিয়া বাটার। এ ধরনের ময়েশ্চারাইজার ত্বককে পুষ্ট রাখে, আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং সুরা প্রদান করে।

মুখ ধোয়ার ২ মিনিটের মধ্যে ময়েশ্চারাইজার লাগালে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়া, গোসলের পাঁচ মিনিটের মধ্যে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা এবং কিছুণ পরপর ত্বকে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগানোও উপকার পাওয়া যাবে।

শুধু বাইরে বের হওয়ার আগেই নয়, রান্নাঘরে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ক্রিম লাগানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সাধারণ কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই ত্বক শীতে নরম, উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান থাকে।

৫. ময়েশ্চারাইজিং মাস্ক

শীতে সপ্তাহে ২-৩ দিন হাইড্রেটিং শিট মাস্ক বা জেল মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক তাৎণিকভাবে নরম ও উজ্জ্বল হয়। অ্যালোভেরা, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সেরামাইড বা ওটস সমৃদ্ধ মাস্ক সবচেয়ে ভালো।

৬. ঠোঁটের যতœ

শুধু ত্বক নয়, শীতকালে ঠোঁটের হাইড্রেশনও জরুরি। শীতে ঠোঁট দ্রæত শুকিয়ে যায়, তাই দিনে কয়েকবার লিপ বাম ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে শিয়া বাটার, মধু বা কোকো বাটারযুক্ত লিপ বাম ঠোঁটকে নরম ও সুরতি রাখে।

৭. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শীতে শরীরের পানি কমে যায়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা ত্বকের ভেতর থেকে আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং রু ভাব কমায়। এই নিয়মগুলো মেনে চললেই শীতেও ত্বক থাকবে নরম, উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান।

সূত্র: হেলথলাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

শীতে ময়েশ্চারাইজারে কাজ না হলে কী করবেন

Update Time : ০১:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

লাইফস্টাইল ডেস্ক : শীতের দিনে ত্বক রু লাগা খুবই স্বাভাবিক। ঠান্ডা হাওয়া, বাতাসে কমে যাওয়া আর্দ্রতা এবং নিয়মিত গরম পানির ব্যবহার ত্বকের স্বাভাবিক তেল ও আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। অনেকের ত্বক এতোই শুষ্ক হয়ে যায় যে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেও শুষ্কতা দূর হয় না। এমন পরিস্থিতিতে ত্বকের যথাযথ যতœ নেওয়া প্রয়োজন।

১. সঠিক কিনজার ব্যবহার করুন

শীতে ফোমিং কিনজার ত্বককে আরো শুষ্ক করে। তাই সালফেট-ফ্রি, ময়েশ্চারাইজিং কিনজার ব্যবহার করা উচিত। ক্রিম- বা জেল-বেসড কিনজার মুখ পরিষ্কার রাখে, কিন্তু ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে না।

২. গরম পানি এড়িয়ে চলুন

শীতে অনেকেই গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়, যা ত্বকের আর্দ্রতা আরও কমিয়ে দেয়। ঠান্ডা বা হালকা গরম পানি ব্যবহার ত্বকের জন্য সবচেয়ে ভালো। এতে ত্বক পরিষ্কার হয় এবং আর্দ্রতাও নষ্ট হয় না।

৩. টোনারের পরিবর্তে হাইড্রেটিং মিস্ট বা এসেন্স ব্যবহার করুন

অ্যালকোহল-বেসড টোনার শীতে ত্বক শুষ্ক করে। বদলে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, অ্যালোভেরা, রোজ ওয়াটার বা স্নেইল মিউসিন সমৃদ্ধ হাইড্রেটিং মিস্ট বা এসেন্স ব্যবহার করলে আর্দ্রতা ত্বকের গভীরে পৌঁছায়।

৪.ভারী ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন

শুধু হালকা ময়েশ্চারাইজার শীতে অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। তাই ঘন, পুষ্টিকর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। যাতে থাকে সেরামাইড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন এবং স্কোয়ালিন বা শিয়া বাটার। এ ধরনের ময়েশ্চারাইজার ত্বককে পুষ্ট রাখে, আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং সুরা প্রদান করে।

মুখ ধোয়ার ২ মিনিটের মধ্যে ময়েশ্চারাইজার লাগালে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়া, গোসলের পাঁচ মিনিটের মধ্যে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা এবং কিছুণ পরপর ত্বকে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগানোও উপকার পাওয়া যাবে।

শুধু বাইরে বের হওয়ার আগেই নয়, রান্নাঘরে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ক্রিম লাগানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সাধারণ কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই ত্বক শীতে নরম, উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান থাকে।

৫. ময়েশ্চারাইজিং মাস্ক

শীতে সপ্তাহে ২-৩ দিন হাইড্রেটিং শিট মাস্ক বা জেল মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক তাৎণিকভাবে নরম ও উজ্জ্বল হয়। অ্যালোভেরা, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সেরামাইড বা ওটস সমৃদ্ধ মাস্ক সবচেয়ে ভালো।

৬. ঠোঁটের যতœ

শুধু ত্বক নয়, শীতকালে ঠোঁটের হাইড্রেশনও জরুরি। শীতে ঠোঁট দ্রæত শুকিয়ে যায়, তাই দিনে কয়েকবার লিপ বাম ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে শিয়া বাটার, মধু বা কোকো বাটারযুক্ত লিপ বাম ঠোঁটকে নরম ও সুরতি রাখে।

৭. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শীতে শরীরের পানি কমে যায়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা ত্বকের ভেতর থেকে আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং রু ভাব কমায়। এই নিয়মগুলো মেনে চললেই শীতেও ত্বক থাকবে নরম, উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান।

সূত্র: হেলথলাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া