Dhaka ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে জামায়াতের বৈঠক , ১৮ দফা দাবি জানালো গোলাম পরওয়ার নভেম্বরে গণভোট চায় জামায়াত   

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৮৪ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : নভেম্বরে গণভোট চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক দল যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পায়-সেটি আমাদের দাবি। গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, প্রবাসী ভোটারদের ভোট প্রক্রিয়া যাতে সহজ হয়, সে বিষয়েও আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। নির্বাচন যেন সম্পূর্ণ নিরপে হয়, সেটিও জোর দিয়ে বলেছি। একই সঙ্গে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টিও আমরা উল্লেখ করেছি। জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমরা সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এই সংবিধানের আওতায় থেকেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক-এটাই চাই। বৈঠকে মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও ড. হামিদুর রহমান আজাদ; কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন; ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সভাপতি মো. সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা মহানগর দণি জামায়াতের সভাপতি নূরুল ইসলাম বুলবুল। এদিকে ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে বিএনপির আপত্তির মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ২৩ অক্টোবর দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচন কমিশনের প্রতি ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও ইবনে সিনা হাসপাতালসহ বিভিন্ন সেবামূলক ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী দায়িত্ব না দেওয়ার আহŸান জানিয়েছে-যা নিয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি এই দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এর পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এদিকে, নির্বাচনি জোট করলেও প্রার্থীদের নিজ নিজ দলের প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে- এমন বিধানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। তারা জাতীয় নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশ্লিষ্ট ধারা আগের মতো রাখার দাবি জানিয়েছে। তবে বিএনপির এই আপত্তিকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী। আরপিও সংশোধনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জোট হলেও নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিষয়ে একমত দলটি। বৈঠক শেষে গোলাম পরওয়ার বলেন, আরপিও স¤প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে যেটা সংশোধন হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটা বিধান হচ্ছে ইলেক্টোরাল প্রসেস। তারাও সুপারিশ করেছিল যে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল তার জন্য নির্ধারিত প্রতীকেই সে দলের প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন। আমরা এই প্রস্তাব মেনে নিয়েছি। কিন্তু তারা (বিএনপি) এর বিরুদ্ধে ইসিতে প্রস্তাব দিয়ে গেছে, যা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন বলেছে যে জোট হতে পারবে, কিন্তু প্রতীক হবে জোটবদ্ধ প্রত্যেক দলের। নির্ধারিত প্রতীকে তাদের ভোট করতে হবে। নিজ দলের প্রতীক বাদ দিয়ে অন্য কোনো দলের প্রতীকে ভোট করা যাবে না। এটা আমরা মেনে নিয়েছি। উপদেষ্টা পরিষদে এই সংশোধনটা অনুমোদন হয়েছে। এটা হওয়ার পরও আমরা দেখলাম একটি দলের প থেকে এসে এটাকে আবার সংশোধন করার জন্য বলা হয়েছে, এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। এটার মাধ্যমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড লঙ্ঘন করা হয়েছে।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ইসিকে ১৮ দফা দিয়েছে জামায়াত : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেভাবে সম্পন্ন করার ল্েয নির্বাচন কমিশনের নিকট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প থেকে ১৮ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সভাকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের ১৮ দফা সুপারিশের মূল বক্তব্যসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো-

১. জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের ল্েয জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারীর পরেই আগামী নভেম্বরে গণভোটের আয়োজন করতে হবে।

২. উপদেষ্টা পরিষদে গৃহীত সর্বশেষ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ২০ নম্বর অনুচ্ছেদের সংশোধিত বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীক ব্যবহার করবে; অন্য কোনো দলের প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। এই বিধান বহাল রাখতে হবে।

৩. নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রত্যেক স্তরে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের শতভাগ নিরপেতা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত প্রিজাইডিং, পোলিং, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগে সম্পূর্ণ নিরপেতা বজায় রাখতে হবে।

৫. সকল ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ সামরিক বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করতে হবে।

৬. সকল ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী বুথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

৭. বিগত বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগামী নির্বাচনে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া যাবে না; মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের (ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসি) নিয়োগ শতভাগ লটারির ভিত্তিতে দিতে হবে।

৮. রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে প্রশাসনের অফিসারগণের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব দ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও নিরপেতার ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

৯. সব ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের কমপে এক সপ্তাহ পূর্বে সামরিক, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

১০. নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে নির্বাচনী মাঠ সমতল করা হবে।

১১. সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে; অতীত কালে দলীয় প্রয়োজনে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে তা সরকারের নিকট জমা করতে হবে।

১২. নির্বাচনী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

১৩. ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত নিশ্চিত করতে নির্বাচনী এলাকার ভেতর ও বহির্ভূত স্থানে সন্ত্রাসী তৎপরতা দেখা দিলে তাৎণিকভাবে দমন করতে হবে।

১৪. ভোটার তালিকায় ভোটারদের ছবি স্পষ্ট না হলে তা সংশোধন করে চিত্রসহ তালিকা পোলিং এজেন্টদের যথাসময়ে সরবরাহ করতে হবে।

১৫. নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত পোলিং, প্রিজাইডিং অফিসার, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের সুযোগ দিতে হবে।

১৬. প্রবাসী ভোটারদের ভোট প্রদানের পদ্ধতি সহজ করতে ভোটার আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট যেকোনো একটির মাধ্যমে ভোট প্রদানের সুযোগ দেওয়া হোক; রেজিস্টার্ড প্রবাসী ভোটারদের তালিকা রাজনৈতিক দলগুলোকে যৌক্তিক সময়ে সরবরাহ করতে হবে।

১৭. নির্বাচন পর্যবেক নিয়োগের েেত্র তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও নিরপেতা যাচাই করতে হবে।

১৮. অতীতকালে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে জামায়াতের বৈঠক , ১৮ দফা দাবি জানালো গোলাম পরওয়ার নভেম্বরে গণভোট চায় জামায়াত   

Update Time : ১১:২১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : নভেম্বরে গণভোট চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক দল যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পায়-সেটি আমাদের দাবি। গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, প্রবাসী ভোটারদের ভোট প্রক্রিয়া যাতে সহজ হয়, সে বিষয়েও আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। নির্বাচন যেন সম্পূর্ণ নিরপে হয়, সেটিও জোর দিয়ে বলেছি। একই সঙ্গে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টিও আমরা উল্লেখ করেছি। জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমরা সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এই সংবিধানের আওতায় থেকেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক-এটাই চাই। বৈঠকে মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও ড. হামিদুর রহমান আজাদ; কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন; ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সভাপতি মো. সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা মহানগর দণি জামায়াতের সভাপতি নূরুল ইসলাম বুলবুল। এদিকে ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে বিএনপির আপত্তির মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ২৩ অক্টোবর দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচন কমিশনের প্রতি ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও ইবনে সিনা হাসপাতালসহ বিভিন্ন সেবামূলক ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী দায়িত্ব না দেওয়ার আহŸান জানিয়েছে-যা নিয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি এই দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এর পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এদিকে, নির্বাচনি জোট করলেও প্রার্থীদের নিজ নিজ দলের প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে- এমন বিধানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। তারা জাতীয় নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশ্লিষ্ট ধারা আগের মতো রাখার দাবি জানিয়েছে। তবে বিএনপির এই আপত্তিকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী। আরপিও সংশোধনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জোট হলেও নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিষয়ে একমত দলটি। বৈঠক শেষে গোলাম পরওয়ার বলেন, আরপিও স¤প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে যেটা সংশোধন হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটা বিধান হচ্ছে ইলেক্টোরাল প্রসেস। তারাও সুপারিশ করেছিল যে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল তার জন্য নির্ধারিত প্রতীকেই সে দলের প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন। আমরা এই প্রস্তাব মেনে নিয়েছি। কিন্তু তারা (বিএনপি) এর বিরুদ্ধে ইসিতে প্রস্তাব দিয়ে গেছে, যা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন বলেছে যে জোট হতে পারবে, কিন্তু প্রতীক হবে জোটবদ্ধ প্রত্যেক দলের। নির্ধারিত প্রতীকে তাদের ভোট করতে হবে। নিজ দলের প্রতীক বাদ দিয়ে অন্য কোনো দলের প্রতীকে ভোট করা যাবে না। এটা আমরা মেনে নিয়েছি। উপদেষ্টা পরিষদে এই সংশোধনটা অনুমোদন হয়েছে। এটা হওয়ার পরও আমরা দেখলাম একটি দলের প থেকে এসে এটাকে আবার সংশোধন করার জন্য বলা হয়েছে, এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। এটার মাধ্যমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড লঙ্ঘন করা হয়েছে।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ইসিকে ১৮ দফা দিয়েছে জামায়াত : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেভাবে সম্পন্ন করার ল্েয নির্বাচন কমিশনের নিকট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প থেকে ১৮ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সভাকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের ১৮ দফা সুপারিশের মূল বক্তব্যসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো-

১. জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের ল্েয জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারীর পরেই আগামী নভেম্বরে গণভোটের আয়োজন করতে হবে।

২. উপদেষ্টা পরিষদে গৃহীত সর্বশেষ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ২০ নম্বর অনুচ্ছেদের সংশোধিত বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীক ব্যবহার করবে; অন্য কোনো দলের প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। এই বিধান বহাল রাখতে হবে।

৩. নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রত্যেক স্তরে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের শতভাগ নিরপেতা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত প্রিজাইডিং, পোলিং, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগে সম্পূর্ণ নিরপেতা বজায় রাখতে হবে।

৫. সকল ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ সামরিক বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করতে হবে।

৬. সকল ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী বুথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

৭. বিগত বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগামী নির্বাচনে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া যাবে না; মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের (ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসি) নিয়োগ শতভাগ লটারির ভিত্তিতে দিতে হবে।

৮. রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে প্রশাসনের অফিসারগণের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব দ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও নিরপেতার ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

৯. সব ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের কমপে এক সপ্তাহ পূর্বে সামরিক, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

১০. নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে নির্বাচনী মাঠ সমতল করা হবে।

১১. সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে; অতীত কালে দলীয় প্রয়োজনে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে তা সরকারের নিকট জমা করতে হবে।

১২. নির্বাচনী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

১৩. ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত নিশ্চিত করতে নির্বাচনী এলাকার ভেতর ও বহির্ভূত স্থানে সন্ত্রাসী তৎপরতা দেখা দিলে তাৎণিকভাবে দমন করতে হবে।

১৪. ভোটার তালিকায় ভোটারদের ছবি স্পষ্ট না হলে তা সংশোধন করে চিত্রসহ তালিকা পোলিং এজেন্টদের যথাসময়ে সরবরাহ করতে হবে।

১৫. নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত পোলিং, প্রিজাইডিং অফিসার, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের সুযোগ দিতে হবে।

১৬. প্রবাসী ভোটারদের ভোট প্রদানের পদ্ধতি সহজ করতে ভোটার আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট যেকোনো একটির মাধ্যমে ভোট প্রদানের সুযোগ দেওয়া হোক; রেজিস্টার্ড প্রবাসী ভোটারদের তালিকা রাজনৈতিক দলগুলোকে যৌক্তিক সময়ে সরবরাহ করতে হবে।

১৭. নির্বাচন পর্যবেক নিয়োগের েেত্র তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও নিরপেতা যাচাই করতে হবে।

১৮. অতীতকালে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করতে হবে।